
মোঃ শহিদুল ইসলাম, স্টাফ রিপোর্টারা।
ঢাকার আশুলিয়ার নিশ্চিন্তপুর এলাকায় অষ্টম শ্রেণি পাস করেও নিজেকে চিকিৎসক ও ডেন্টাল সার্জন পরিচয় দিয়ে রোগীদের চিকিৎসাসেবা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে মোহাম্মদ আব্দুল আলিমের বিরুদ্ধে। তিনি স্থানীয় জননী ফার্মেসির কর্ণধার। তাঁর বিরুদ্ধে ভুল চিকিৎসার মাধ্যমে রোগীদের কাছ থেকে হাজার হাজার টাকা নেওয়া এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণার অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।
অভিযোগ রয়েছে, ওষুধ বিক্রির পাশাপাশি জননী ফার্মেসিতে বিভিন্ন ধরনের রোগের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। এমনকি দাঁতের চিকিৎসার পাশাপাশি নাকের পলিপাসসহ বিভিন্ন সমস্যার চিকিৎসাও করেন আব্দুল আলিম। তবে তাঁর চিকিৎসাসংক্রান্ত শিক্ষাগত যোগ্যতা, প্রশিক্ষণ ও পেশাগত স্বীকৃতি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
সরেজমিনে অনুসন্ধানে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, আব্দুল আলিমের শিক্ষাগত যোগ্যতা অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত বলে জানা গেছে। চিকিৎসক হিসেবে তাঁর প্রয়োজনীয় ডিগ্রি ও প্রশিক্ষণ রয়েছে কি না, তা নিয়েও সংশ্লিষ্ট মহলে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। চিকিৎসাসেবা সম্পর্কে গণমাধ্যমকর্মীরা তাঁর কাছে জানতে চাইলে তিনি সন্তোষজনক উত্তর দিতে পারেননি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে কথা বলার সময় আব্দুল আলিম নিজের ভুল স্বীকার করে চেম্বার বন্ধ করে দেওয়ার অঙ্গীকার করেছেন বলে জানা গেছে।
অন্যদিকে, আশুলিয়া ডেন্টাল ফাউন্ডেশনের সভাপতি সোহেলের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি রূপসী বাংলা টিভিকে জানান, আব্দুল আলিম তাঁদের সংগঠনের সদস্য নন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, আব্দুল আলিমের প্রয়োজনীয় শিক্ষাগত যোগ্যতা ও প্রশিক্ষণ নেই।
স্থানীয়দের আশঙ্কা, যথাযথ যোগ্যতা ও প্রশিক্ষণ ছাড়া কেউ চিকিৎসাসেবা দিলে রোগীরা মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়তে পারেন। বিশেষ করে দাঁতের চিকিৎসা কিংবা নাকের পলিপাসের মতো সমস্যায় ভুল চিকিৎসা রোগীর শারীরিক জটিলতা বাড়াতে পারে। তাই এ ধরনের চিকিৎসাসেবা দেওয়ার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরদারি ও প্রয়োজনীয় যাচাই জরুরি।
এলাকাবাসীর দাবি, জননী ফার্মেসিতে চিকিৎসাসেবা দেওয়ার বৈধতা, আব্দুল আলিমের শিক্ষাগত যোগ্যতা এবং প্রয়োজনীয় পেশাগত নিবন্ধন রয়েছে কি না, তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে তদন্ত করা হোক। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে প্রচলিত আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও স্বাস্থ্য বিভাগের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তাঁরা।
জনস্বার্থে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত জরুরি। তবে অভিযোগের বিষয়ে আব্দুল আলিমের বিস্তারিত বক্তব্য এবং সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে যুক্ত করা প্রয়োজন।