
কালিয়াকৈর উপজেলা প্রতিনিধি।
গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার সূত্রাপুর–বোর্ডঘর এলাকায় ঢাকা–টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন অটোরিকশাচালক ও শ্রমিকেরা। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) বেলা ১১টার দিকে মহাসড়কে অবস্থান নিয়ে তাঁরা এ কর্মসূচি শুরু করেন। এতে মহাসড়কের উভয় পাশে যান চলাচল ব্যাহত হয়। ভোগান্তিতে পড়েন দূরপাল্লার যাত্রী, কর্মজীবী মানুষ ও পরিবহনসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। পরে কালিয়াকৈর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শহিদুল ইসলামের আশ্বাসে প্রায় এক ঘণ্টা পর অবরোধ প্রত্যাহার করে নেন আন্দোলনকারীরা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মহাসড়কে অটোরিকশা চলাচল নিয়ন্ত্রণ এবং এ বিষয়ে পুলিশের আইন প্রয়োগকে কেন্দ্র করে চালকদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দেয়। এর প্রতিবাদে শুক্রবার সকালে সূত্রাপুর–বোর্ডঘর এলাকায় অটোরিকশাচালক ও শ্রমিকেরা জড়ো হন। একপর্যায়ে তাঁরা ঢাকা–টাঙ্গাইল মহাসড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন এবং যান চলাচল বন্ধ করে দেন।
আন্দোলনকারীদের দাবি, অটোরিকশা চালিয়েই তাঁদের অধিকাংশের জীবিকা নির্বাহ হয়। পরিবারের ভরণপোষণসহ দৈনন্দিন খরচ মেটাতে তাঁরা এই পেশার ওপর নির্ভরশীল। তাই অটোরিকশা চলাচল নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে তাঁদের জীবিকার বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়ার দাবি জানান তাঁরা। পাশাপাশি অটোরিকশা চালানোর কারণে যেন অযথা হয়রানির শিকার হতে না হয়, সে বিষয়ে পুলিশের কাছে আশ্বাস চান চালকেরা।
অবরোধের কারণে ঢাকা ও উত্তরবঙ্গমুখী যানবাহন চলাচলে বিঘ্ন ঘটে। মহাসড়কের দুই পাশে দূরপাল্লার বাস, পণ্যবাহী ট্রাকসহ বিভিন্ন ধরনের যানবাহন আটকে পড়ে। এতে যাত্রীদের নির্ধারিত সময়ে গন্তব্যে পৌঁছানো নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। জরুরি কাজে বের হওয়া মানুষ ও কর্মজীবীদেরও দুর্ভোগ পোহাতে হয়। সড়কে যানবাহনের চাপ বাড়ায় সংশ্লিষ্ট এলাকায় যানজটের সৃষ্টি হয়।
এদিকে ঢাকা–টাঙ্গাইল মহাসড়ক দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগপথ। এ মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে গেলে দূরপাল্লার যাত্রী ও পণ্য পরিবহনে ব্যাপক প্রভাব পড়ে। অন্যদিকে মহাসড়কে অননুমোদিত যানবাহন চলাচল, উল্টো পথে গাড়ি চালানো এবং ট্রাফিক আইন অমান্য করার কারণে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়তে পারে। তাই সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি চালকদের জীবিকা ও জনদুর্ভোগের বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে একপর্যায়ে কালিয়াকৈর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শহিদুল ইসলাম ঘটনাস্থলে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে কথা বলেন। তিনি তাঁদের দাবিদাওয়া শোনেন এবং বিষয়টি নিয়ে আশ্বাস দেন। পরে তাঁর আশ্বাসের পরিপ্রেক্ষিতে চালক ও শ্রমিকেরা অবরোধ প্রত্যাহার করে নেন।
কালিয়াকৈর থানার ওসি মো. শহিদুল ইসলাম অবরোধ প্রত্যাহারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। অবরোধ তুলে নেওয়ার পর মহাসড়কে যান চলাচল ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হতে শুরু করে। এতে আটকে পড়া যানবাহন চলাচল শুরু করলে যাত্রীদের দুর্ভোগও ক্রমান্বয়ে কমে আসে।
তবে অটোরিকশাচালকদের দাবিদাওয়া নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানা যায়নি। মহাসড়কে শৃঙ্খলা বজায় রাখা, দুর্ঘটনা প্রতিরোধ এবং চালকদের জীবিকার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে কার্যকর সমাধান বের করা গেলে এ ধরনের অবরোধ ও জনদুর্ভোগ এড়ানো সম্ভব বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।