1. admin@doinikaparadhprotidin.com : admin :
শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ০৫:৪৭ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
বাংলাদেশ রিপোর্টার্স সোসাইটি এর কেন্দ্রীয় কমিটির নির্বাচনের নির্বাচিতদের ফলাফল ঘোষণা ও শপথ গ্রহন শ্রমিক আন্দোলনে যানজট নিরসনকালে হুমায়ুন কবির খানের ওপর হামলা, তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ কালিয়াকৈরে পল্লী বিদ্যুৎ ও মৌচাক পোশাক শ্রমিকদের মহাসড়ক অবরোধ, দীর্ঘ যানজটে ভোগান্তি পুলিশ বাহিনীর অধস্তন কর্মচারীদের পদোন্নতি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত জমি জালিয়াতির অভিযোগে সাবেক দুই কাউন্সিলরসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা কালিয়াকৈরে অটোরিকশাচালকদের মহাসড়ক অবরোধ, এক ঘণ্টা পর প্রত্যাহার কালবেলা’র সাংবাদিক আকন্দ সোহাগের বিরুদ্ধে থানায় চাঁদাবাজির অভিযোগ আশুলিয়া জামগড়া এলাকায় ভেজাল ও নকল সিগারেটের আখড়া অষ্টম শ্রেণি পাস করে চিকিৎসক পরিচয়ে রোগী দেখার অভিযোগ আব্দুল আলিমের বিরুদ্ধে ফ্যাক্টরি দখল নিতে গিয়ে আশুলিয়ায় সাংবাদিকের ওপর সন্ত্রাসী হামলা, তীব্র নিন্দ

জমি জালিয়াতির অভিযোগে সাবেক দুই কাউন্সিলরসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা

  • প্রকাশের সময় : রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬
  • ৩৩ বার পঠিত

 

 

নিজস্ব প্রতিবেদক।

 

তদন্তে পিবিআই
৩০ শতাংশের জমি ৫৬ শতাংশ দেখিয়ে নামজারির অভিযোগ, অতিরিক্ত ২৬ শতাংশ নিয়ে বিরুদ্ধ
গাজীপুর মহানগরে জমির পরিমাণ বাড়িয়ে নামজারি, জাল দলিল তৈরি ও প্রতারণার অভিযোগে সিটি করপোরেশনের সাবেক দুই কাউন্সিলরসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে। প্রকৃতপক্ষে ৩০ শতাংশ জমি থাকলেও কাগজপত্রে তা ৫৬ শতাংশ দেখিয়ে নামজারি করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় দায়ের করা মামলাটি তদন্ত করছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই), গাজীপুর।
মামলার আসামিরা হলেন গাজীপুর সিটি করপোরেশনের ৩৭ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর ফজলুল হক চৌধুরী (৬৫), সাবেক কাউন্সিলর জুয়েল মন্ডল (৪০), ফারহানা চৌধুরী বৃষ্টি (৩০), রাকিব চৌধুরী (২৮) ও রাব্বি চৌধুরী (২৫)। মামলার অভিযোগে শেষের তিনজনকে ফজলুল হক চৌধুরীর সন্তান হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
মামলার বাদী মো. আলাউদ্দিন চৌধুরী জনী গাজীপুরের চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের গাছা আমলী আদালতে এ মামলা দায়ের করেন। এতে দণ্ডবিধির ৪০৬, ৪২০, ৪৬৪, ৪৬৭, ৪৬৮ ও ৪৭১ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।
৩০ শতাংশ জমি দেখানো হয়েছে ৫৬ শতাংশ
মামলার এজাহার ও বাদীর অভিযোগ অনুযায়ী, গাজীপুর মহানগরের গাছা থানাধীন কুনিয়া-পাছর এলাকায় জমির মালিকানা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। বাদীর দাবি, সংশ্লিষ্ট জমির প্রকৃত মালিকানা ও দলিলপত্রের তথ্যের সঙ্গে পরবর্তী নামজারির কাগজপত্রে উল্লেখ করা জমির পরিমাণের অসংগতি রয়েছে।
অভিযোগে বলা হয়েছে, প্রথম আসামির নামে ১৯৯৯ সালের ১৩০৭৭ নম্বর দলিলে ৩০ শতাংশ জমি ক্রয়ের তথ্য থাকলেও পরবর্তী সময়ে নামজারির কাগজপত্রে জমির পরিমাণ ৫৬ শতাংশ দেখানো হয়। এতে অতিরিক্ত ২৬ শতাংশ জমি নিয়ে বিরোধের সৃষ্টি হয়েছে। বাদীর অভিযোগ, এভাবে নামজারি করে তাঁর মালিকানাধীন সম্পত্তির অংশ নিজেদের নামে অন্তর্ভুক্ত করার চেষ্টা করা হয়েছে। এ কাজে অন্য আসামিরাও সহযোগিতা করেছেন বলে মামলায় দাবি করা হয়েছে।
পারিবারিক সূত্রে জমির মালিকানা দাবি
মামলার বিবরণে বাদী উল্লেখ করেন, তাঁর দাদা মৃত মো. আব্দুল খালেক বিভিন্ন নিবন্ধিত দলিলের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট সম্পত্তির মালিকানা অর্জন করেন এবং দীর্ঘদিন জমিটি ভোগদখলে রাখেন।
বাদীর দাবি, ১৯৯৯ সালের ৩ অক্টোবর সদর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে নিবন্ধিত ১৩০৭৮ নম্বর এওয়াজ হেবা দলিলের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট সম্পত্তির ৩০ শতাংশ জমি তাঁর কাছে হস্তান্তর করা হয়। পরবর্তীতে ২০১১ সালে নামজারি-জমাভাগের মাধ্যমে ৩৫৫০ নম্বর জোত খোলা হয় বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে জমির পরিমাণ, মালিকানা এবং পরবর্তী নামজারির বৈধতা নিয়ে বিরোধ দেখা দেয়। বাদীর অভিযোগ, দলিলের তথ্যের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণভাবে অতিরিক্ত জমি নামজারি করায় তাঁর সম্পত্তির অধিকার ক্ষুণ্ন হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
২০২৫ সালে বিষয়টি জানতে পেরে ভূমি অফিসে আবেদন
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ১৬ এপ্রিল জমির খাজনা ও নামজারি-সংক্রান্ত কাজ করতে গিয়ে বাদী জানতে পারেন, তাঁর মালিকানাধীন সম্পত্তির অংশ আসামিদের নামে নামজারি করা হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
এরপর তিনি সংশ্লিষ্ট নামজারি বাতিলের আবেদন জানিয়ে টঙ্গী সার্কেলের সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয়ে একটি বিবিধ মামলা করেন। বাদীর দাবি, ওই মামলার প্রতিবেদনে তাঁর পক্ষে মতামত দেওয়া হয়।
পরে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের মধ্যস্থতায় একাধিকবার বিরোধ নিষ্পত্তির চেষ্টা করা হলেও তা সফল হয়নি বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
হুমকি দেওয়ার অভিযোগ
মামলার অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, ২০২৬ সালের ৫ জুলাই বাদী বিতর্কিত নামজারি ছেড়ে দেওয়ার অনুরোধ জানাতে আসামিদের বাড়িতে যান। এ সময় আসামিরা তাঁর ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে খুন-জখমের হুমকি দেন এবং তাঁকে বাড়ি থেকে বের করে দেন বলে অভিযোগ করেছেন বাদী।
এসব ঘটনার পর তিনি আদালতের শরণাপন্ন হয়ে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের আবেদন জানান।
যে জমি নিয়ে বিরোধ
মামলার তফসিল অনুযায়ী, গাজীপুর জেলার গাছা থানাধীন কুনিয়া মৌজার এসএ খতিয়ান নম্বর ৯৮, আরএস খতিয়ান নম্বর ১৭০, এসএ দাগ নম্বর ৩০১ ও ৩০৩ এবং আরএস দাগ নম্বর ১৫০ ও ৫৪৬-এর জমি নিয়ে বিরোধ রয়েছে। তফসিলে সংশ্লিষ্ট জমির মোট পরিমাণ ৬৭ শতাংশ উল্লেখ করা হয়েছে। এর মধ্যে ৩০ শতাংশ জমি হেবা দলিলের মাধ্যমে পেয়েছেন বলে দাবি করেছেন বাদী।
বাদীর অভিযোগ, জমির প্রকৃত পরিমাণের চেয়ে বেশি জমি দেখিয়ে নামজারি করার মাধ্যমে তাঁর মালিকানাধীন সম্পত্তির অংশ আত্মসাতের চেষ্টা করা হয়েছে। এ ঘটনায় আদালতের কাছে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ ও সুবিচার চেয়েছেন তিনি।
মামলাটি তদন্ত করছে পিবিআই
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আলমগীর হোসেন জানান, মো. আলাউদ্দিন চৌধুরী জনীর দায়ের করা মামলাটি তদন্তের জন্য আদালত পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই), গাজীপুরকে দায়িত্ব দিয়েছেন।
তিনি বলেন, “মামলাটি তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্তের মাধ্যমে সঠিক তথ্য উদ্ঘাটন করে প্রতিবেদন দেওয়া হবে। তদন্তের স্বার্থে এখন এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু বলা যাবে না।”
এ বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। অভিযোগের বিষয়ে তাঁদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে যুক্ত করা হবে।
মামলাটির তদন্ত শেষে জমির প্রকৃত মালিকানা, দলিলের সত্যতা এবং নামজারির প্রক্রিয়ায় কোনো অনিয়ম হয়েছে কি না, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানা যাবে। অভিযোগের সত্যতা তদন্ত ও আদালতের বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নির্ধারিত হবে।

Facebook Comments Box
এই ক্যাটাগরির আরও খবর
© স্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৬ দৈনিক অপরাধ প্রতিদিন