
নিজস্ব প্রতিবেদক।
গাজীপুরের চন্দ্রা-সখীপুর-নবীনগর মহাসড়কের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে সড়কের দুই পাশ ও ফুটপাত দখল করে চলছে রমরমা ব্যবসা-বাণিজ্য। হকার ও বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি পরিবহনও দখল করে রেখেছে মহাসড়কের বেশ কিছু অংশ। এতে ব্যাহত হচ্ছে যান চলাচল, বাড়ছে যানজট ও দুর্ঘটনার ঝুঁকি। চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন পথচারী, যাত্রী ও স্থানীয় বাসিন্দারা।
সরেজমিনে দেখা গেছে, চন্দ্রা পল্লী বিদ্যুৎ বাসস্ট্যান্ড ও সংলগ্ন ফ্লাইওভারের নিচ থেকে বাইমাইল মোড় হয়ে গাজীপুর চৌরাস্তা পর্যন্ত মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে ফুটপাত ও সার্ভিস লেন দখল করে গড়ে উঠেছে নানা ধরনের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান। এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে ফলের দোকান, কাপড়ের দোকান, গ্যারেজ, ঝুটের গুদাম ও রেন্ট-এ-কারের ব্যবসা। কোথাও কোথাও দোকানের মালামাল ও পণ্যবাহী যানবাহন সার্ভিস লেনের ওপর রাখা হচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
মহাসড়কের দুই পাশের ফুটপাত ও সার্ভিস লেন দখল হয়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের চলাচলের জায়গা সংকুচিত হয়ে পড়েছে। অনেক ক্ষেত্রে পথচারীদের বাধ্য হয়ে মূল সড়ক দিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। অন্যদিকে, ছোট যানবাহন চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হওয়ায় ব্যস্ততম এই সড়কে যানজট ও দুর্ঘটনার আশঙ্কা বাড়ছে। এতে কর্মজীবী মানুষ, শিক্ষার্থী, পরিবহনযাত্রী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রতিনিয়ত দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
দোকান বসিয়ে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মহাসড়কের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ফুটপাত ও সড়কের জায়গা দখল করে দোকানপাট বসানোর সুযোগ দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এসব দোকান থেকে প্রতিদিন ১০০ থেকে ২০০ টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয় বলে দাবি করেছেন স্থানীয়দের কেউ কেউ। তাঁদের অভিযোগ, প্রভাবশালী ব্যক্তিদের ছত্রচ্ছায়ায় এসব কার্যক্রম চললেও তা বন্ধে কার্যকর উদ্যোগ চোখে পড়ছে না।
এদিকে, সড়ক ও ফুটপাত দখল করে ব্যবসা পরিচালনাকারী কয়েকজন ব্যবসায়ীর অভিযোগ, ব্যবসা চালিয়ে যেতে স্থানীয় বিএনপির কয়েকজন নেতাকে মোটা অঙ্কের মাসোহারা দিতে হয়। তবে অভিযোগে উল্লিখিত নেতাদের নাম, তাঁদের বক্তব্য কিংবা এসব অভিযোগের পক্ষে স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়—এমন প্রমাণ পাওয়া যায়নি। ফলে চাঁদা আদায় ও মাসোহারা নেওয়ার অভিযোগগুলোর সত্যতা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।
স্থানীয়দের অভিযোগ, মহাসড়কের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে নিয়মিত পুলিশি তৎপরতা থাকলেও সড়ক ও ফুটপাত দখল এবং কথিত চাঁদা আদায়ের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান কার্যকর পদক্ষেপের অভাব রয়েছে। এ কারণে দীর্ঘদিন ধরে এসব স্থানে অবৈধভাবে ব্যবসা পরিচালনার প্রবণতা অব্যাহত রয়েছে বলে মনে করছেন তাঁরা।
অবৈধ দখল উচ্ছেদে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস
এ বিষয়ে সালনা হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ফিরোজ হোসেন জানান, মহাসড়কে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ কিংবা সড়ক দখল করে কোনো ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান পরিচালনার সুযোগ নেই। কোথাও এ ধরনের ঘটনা ঘটলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সচেতন মহলের মতে, মহাসড়কে স্বাভাবিক যান চলাচল নিশ্চিত করা এবং জনদুর্ভোগ কমাতে ফুটপাত ও সার্ভিস লেন দখলমুক্ত করা জরুরি। পাশাপাশি চাঁদা আদায়ের অভিযোগ নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করা প্রয়োজন।
স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ, ফুটপাত ও সার্ভিস লেন দখলমুক্ত করা এবং চাঁদা আদায়ের অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।